শিরোনাম

অপহরণের মামলা করলেন কনের মা,বরের দাবি ভালোবাসার বিয়ে


গজারিয়া,মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেছেন কনের মা মাফিয়া আক্তার। এদিকে, বর রিয়াজ সরকারের (২৫) দাবি অপহরন নয়, ভালোবেসে বিয়ে করেছেন তার মেয়ে তাহমিনা আক্তার তানজিনাকে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে  অপহরণের অভিযোগ মামলার বিষয়টি গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আনোয়ার আলম আজাদ নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, মামলা ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন রিয়াজ সরকারের পরিবারের সদস‌্যরা।

ভোক্তভূগী পরিবার সুত্রে জানা গেছে,গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের বালুয়াকান্দী গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ সরকার(২৫)। একই ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের জসীম উদ্দিনের কন্যা তাহমিনা আক্তার তানজিনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের সম্পর্ককে বিয়েতে পরিণত করার জন্য গেল বছর ২০২৪ সালে ৫সেপ্টেম্বর তাহমিনা আক্তার তানজিনা কে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেন রিয়াজ। এ ঘটনায় গেল বুধবার গজারিয়া থানায় মেয়ের মা মাফিয়া আক্তার বাদী হয়ে মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ এনে মামলা করেছে। মামলার পর থেকে  পুলিশের ভয়ে শুধু রিয়াজই নয় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন পরিবারের সব সদস্য।

ছেলের মা রিনা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোন বাবা মা চায়না তাদের সন্তান পালিয়ে বিয়ে করুক। কিন্তু তারপরও বর্তমান সময়ে প্রায়ই শোনা যায় এমন ঘটনা। কোন বাবা-মা’কি ছেলেকে মেয়ে অপহরণের জন্য সহযোগিতা করে? সবকিছু জানার পরও মেয়ের পরিবার আমাদের ওপর মামলা করেছে। এই বয়সে আমাদের পালিয়ে থাকতে হচ্ছে।  সন্তান জন্ম দিয়ে মনে হয় পাপ করেছিলাম। এজন্য এমন শাস্তি ভোগ করছি।

রিয়াজ সরকার মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি তাহমিনা আক্তার তানজিনা কে অপহরণ করিনি। ভালোবেসে ওকে বিয়ে করেছি।

তাহমিনা আক্তার তানজিনা জানান, আমাকে কেউ অপহরণের চেষ্টাও করেনি। স্বেচ্ছায় তিনি পালিয়ে এসেছেন। পরিবারের অমতে বিয়ে মেনে নিতে না পেরে তার পরিবার তার স্বামী রিয়াজের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেছেন। স্বামীর বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা প্রত্যাহার চায় তিনি।

এ বিষয়ে কথা বলতে তাহমিনা আক্তার তানজিনার পরিবারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আনোয়ার আলম আজাদ জানান, তাহমিনা আক্তার তানজিনা নামে এক
শিক্ষার্থীকে অপহরণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে। ভিকটিম উদ্ধারের পর তদন্ত করে বোঝা যাবে কি ঘটনা।


0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments